হাদীসের মাজহাবি নামাজে কুরআন বিরোধী ১০ পদ্ধতি
সালাত ও নামাজ সিরিজ – পর্ব ৩/৫
ভিডিও লিংক
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
সকল প্রশংসা সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য, যিনি পরম দয়ালু অসীম দয়াময়।
আজ আমাদের আলোচনার বিষয় — মাযহাবের লাইলাতুল ইলেকশন। মাযহাব রহস্য এবং মুসলিম উম্মাহর সাথে ১০০০ বছর ধরে যে ধোঁকাবাজি, প্রতারণা, চাতুরী ও কপটতা করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।
মাযহাবের “ইলেকশন” – এক অবাস্তব গল্প
পৃথিবীর ইতিহাসে একটি মাত্র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। ধরুন, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে চারজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন! শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, নুরুল হক নূর এবং হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ — চারজনই একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী!
“এমন একটি গল্প যদি কেউ বলে, তবে সে ব্যক্তিকে মাতাল, পাগল বা উন্মাদ ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না!”
কিন্তু গত ১০০০ বছর ধরে আমাদেরকে এমনই এক ইলেকশনের গল্প শোনানো হচ্ছে — যেখানে চারজন নির্বাচিত হয়েছেন: ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফি, ইমাম মালেকী ও ইমাম হাম্বলী। এবং আমরা সেই গল্প মনে প্রাণে বিশ্বাস করে নিয়েছি!
মাযহাব কী?
মাযহাব হলো মতবাদ — যেমন লেনিনের মতবাদ, মার্কসের মতবাদ বা আইনস্টাইনের মতবাদ। এটি একটি চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার ভিত্তিতে গঠিত সিদ্ধান্ত।
অথচ আমাদের বলা হয়, কোরআন ও হাদিস ঘেটে এই মাযহাবগুলো তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — কোরআন কি সত্যিই অসম্পূর্ণ? নাকি আল্লাহ কোনো কিছু ভুলে গেছেন?
কোরআন সম্পূর্ণ — কিন্তু মাযহাব তা অস্বীকার করে
আল্লাহ কোরআনে বারবার ঘোষণা করেছেন:
- সূরা ইউসুফ ১১১: “কোরআন হচ্ছে প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ।”
- সূরা আনআম ১১৫: “আল্লাহর বাণী সত্যতা ও ন্যায়পরায়ণতার দিক থেকে পরিপূর্ণ।”
- সূরা হুদ ১: “কোরআনের আয়াতগুলো মজবুত ও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যাকৃত।”
- সূরা আনআম ৩৮: “এই কিতাবে আমি কোনো কিছু বাদ দেইনি।”
তবুও মাযহাবি পণ্ডিতদের যুক্তি হলো — “কোরআনে সব নেই, তাই হাদিস, ইজমা, কিয়াস লাগবে।” কিন্তু এটি কোরআনের সরাসরি বিরোধী!
মাযহাবের বিরোধী নির্দেশনা — ১০টি উদাহরণ
- নিয়ত করা: হানাফী মতে মুখে বলা বিদ‘আত, শাফি-হাম্বলী মতে সুন্নাত, মালিকী মতে নিষ্ক্রিয়।
- হাত বাঁধার স্থান: নাভির উপর, নাভির নিচে, বুকের নিচে, বা হাত ছেড়ে দেওয়া — চার মাযহাবে চার রকম!
- নামাজে স্বর: কোরআন (সূরা বনী ইসরাইল ১১০) বলে — “মাঝামাঝি স্বরে পড়ো।” কিন্তু মাযহাব বলে — তিন ওয়াক্ত জোরে, দুই ওয়াক্ত আস্তে!
- সূরা ফাতিহা: হানাফী মতে ওয়াজিব, অন্যান্য মাযহাবে ফরজ। ইমামের পিছনে মুক্তাদির পড়া নিয়েও মতভেদ!
- আমিন বলা: শাফি মতে জোরে, অন্যান্য মাযহাবে আস্তে।
- বিতির নামাজ: হানাফী মতে ওয়াজিব, অন্যান্য মাযহাবে সুন্নাত।
- জুমার জামাত: হানাফী মতে ৩ জন, শাফি-হাম্বলী মতে ৪০ জন, মালিকী মতে ১২ জন!
- ঈদের নামাজ: হাম্বলী মতে ফরজে কিফায়া, হানাফী মতে ওয়াজিব, মালিকী-শাফি মতে সুন্নাত!
- মহিলাদের ইমামতি: শাফি-হাম্বলী মতে জায়েজ, হানাফী মতে মাকরুহ, মালিকী মতে নাজায়েজ!
- দুরুদ পড়া: শাফি মতে ফরজ, অন্যান্য মাযহাবে সুন্নাত।
শিরকের দিকে ধাবিত নামাজ?
সূরা জিনের ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই মসজিদগুলো আল্লাহরই জন্য, কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।”
কিন্তু আমরা নামাজের শেষ বৈঠকে বলি — “আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিও...” অর্থাৎ, আমরা আল্লাহর সাথে নবীকে ডাকছি! এটি কি সূরা জিনের আয়াতের সরাসরি লঙ্ঘন নয়?
আল্লাহ বলেন (সূরা জিন ২০):
“বল, নিশ্চয়ই আমি আমার রবকে ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করি না।”
অথচ আমরা নামাজে নবী, পীর, অলি-আউলিয়াদের নাম নিচ্ছি — যা কোরআন নিষেধ করেছে।
হাদিসের বিরোধিতা
হাদিসগুলোও পরস্পর বিরোধী। যেমন:
- দাজ্জালের বাম চোখ কানা (হাদিস নং ১১২২)
- দাজ্জালের ডান চোখ কানা (হাদিস নং ১১৬৮)
একই বইয়ে দুটি বিপরীত হাদিস! তাহলে দাজ্জাল কীভাবে প্রমাণিত হবে?
উপসংহার
আল্লাহ বলেন — “তোমরা আমার সাথে সরাসরি সম্পর্ক গড়ো।” কিন্তু মাযহাবি ব্যবস্থা আমাদের মধ্যে অসংখ্য মাধ্যম তৈরি করেছে। ফলে নামাজ হয়ে উঠেছে শুধু একটি রীতিনীতি — যেখানে কোরআনের আদেশ পিছনে পড়ে গেছে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝ দান করুন।
তাযকিয়া নফস